দেশের অন্যতম অভিজাত ও সুন্দর গির্জা হলো বরিশালের অক্সফোর্ড মিশন। এটি শুধু সুন্দরই নয়, এশিয়া মহাদেশের দ্বিতীয় বৃহৎ গির্জা (উচ্চতায়) এবং দেশের অন্যতম পুরাকীতি(প্রায় ১১৩ বছর বয়স)।

একতালা গির্জা কিন্তু উচ্চতা পাঁচতালা ভবনের সমান; প্রায় ৫০ ফুট। সিস্টার এডিথের স্কেচ ও ডিজাইন অনুসারে ফাদার স্ট্রং এ গির্জার নকশা চূড়ান্ত ও উন্নত করেন। এ কাঠামোর প্রধান প্রকৌশলী ছিলেন ফ্রেডেরিক ডগলাস (ব্রিটিশ)।

মূলত গ্রিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এ চার্চের প্রধান আকর্ষণ বিশাল ও নান্দনিক প্রার্থনা হল। প্রার্থনা হলের ভেতরের ছাদ কাঠ দিয়ে আচ্ছাদিত, আর ফ্লোরে সুদৃশ্য মার্বেলের টাইলস। মূল বেদির উপর একটি বড় ক্রস স্থাপিত আছে। এমন স্থাপত্য বৈশিষ্ট্যের গির্জা দুটি দেখা যায় না।চল্লিশটি খিলানের উপরে এ গির্জাটি দাঁড়িয়ে। ৩৫ একর জমির উপরে উঁচু দেয়াল দিয়ে ঘিরে তেরটি ছোট, বড় পুকুর, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আবাসিক ছাত্র হোস্টেল, ফাদার ও সিস্টারদের আবাসন, লাইব্রেরি এবং হাসপাতাল নিয়ে এ চার্চটি অবস্থিত।দিনে সাত বার এশিয়ার সবচে বড় ঘণ্টা (গির্জার ঘণ্টা) এ চার্চেই বেজে ওঠে। সুদৃশ্য ঘণ্টা বুরুজের (টাওয়ার) নিচেই চার্চের ছোট্ট অফিস।

১৯০৩ সালে এ চার্চের প্রথম ধাপের কাজ সম্পন্ন হয় ও একই বছর ২৬ জানুয়ারি উপাসকমণ্ডলীরা উদ্বোধন করেন। দ্বিতীয় ধাপের কাজ ১৯০৭ সাল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। লাল ইট দিয়ে নির্মিত শতবর্ষী এ চার্চ চমৎকার রক্ষণাবেক্ষণের সুবাদে ঝকঝকে ও সুদৃশ্য।